প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকীম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ ও মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তাদের অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন।
সদকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, অলংকার এবং অপ্রয়োজনীয় জমি, বাড়ি, আসবাবপত্রও হিসাবযোগ্য। যদি এসব মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।
নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। ঋণগ্রস্ত হলে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করতে হবে।
রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তাই যিনি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবেন, তার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ, যদি কেউ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না।
