অ্যান্টার্কটিকার সম্রাট পেঙ্গুইন বর্তমানে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই রাজসিক প্রাণীটির অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
সম্রাট পেঙ্গুইন মেরু অঞ্চলে সাগরের বরফের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। কিন্তু উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অ্যান্টার্কটিকার বরফ দ্রুত গলছে, যার ফলে পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমছে।
দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) জানায়, ২০৮০ সালের মধ্যে সম্রাট পেঙ্গুইনের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। আইইউসিএন-এর বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্য ফিলিপ ট্রাথান বলেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন সম্রাট পেঙ্গুইনদের জীবনের জন্য একটি বড় হুমকি।
সম্রাট পেঙ্গুইনের গলা ও বুকের সোনালী বা কমলা রঙের ছোপ দ্বারা তাদের চিহ্নিত করা যায়। শীতকালে, নারী পেঙ্গুইন সামুদ্রিক বরফের ওপর ডিম পাড়ে এবং পুরুষ পেঙ্গুইন সেগুলোকে উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বর্তমানে বরফের স্তর অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং শিশু পেঙ্গুইনদের থাকার জায়গা ভেঙে যাচ্ছে।
২০১৬ সাল থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠে বরফের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক সম্রাট পেঙ্গুইন নিখোঁজ হয়েছে। বিজ্ঞানী ক্রিস্তফ বাবোঁদ জানান, সম্রাট পেঙ্গুইন সামুদ্রিক বরফের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে থাকে এবং বরফের অভাবে তাদের টিকে থাকা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফিলিপ ট্রাথান বলেন, সম্রাট পেঙ্গুইন আমাদের দ্রুত পরিবর্তিত পৃথিবীর বিষয়ে সতর্ক করে দিচ্ছে। গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো না হলে ভবিষ্যতে অনেক প্রাণী বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে।
