প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস অনেকেরই নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। এই মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে অনেককেই ওষুধ সেবন করতে হয়, তবে ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন মানসিক চাপ মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সীফাত জাহান শশী।
স্ট্রেস কমানোর ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস এবং যৌন আগ্রহে পরিবর্তন। কিছু ওষুধ, বিশেষ করে বেঞ্জোডায়াজেপিন-জাতীয় ওষুধ, দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে আসক্তির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ওষুধ ছাড়া মানসিক চাপ কমানোর উপায় হিসেবে প্রথমেই রয়েছে শারীরিক ব্যায়াম। সাইকেল চালানো বা হাঁটাহাঁটি মানসিক চাপের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি, কারণ ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি-এর মতো পুষ্টি উপাদান মেজাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, বাদাম খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
স্ক্রিন টাইম কমালে মানসিক চাপ কমতে পারে, কারণ স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং স্ট্রেস বাড়ায়। নিজের জন্য ‘মি টাইম’ বরাদ্দ রাখা এবং পছন্দের কাজ করা মনকে প্রফুল্ল রাখে। নতুন কিছু শেখার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং স্ট্রেস থেকে মন সরে আসে।
অ্যালকোহল, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিত্যাগ করা উচিত। এগুলো সাময়িক ভালো লাগা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। অন্যের সাহায্য করলে মন প্রশান্ত হয়, ছোট ছোট কাজও এতে সহায়ক। কাজের ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি সেট করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে মানসিক চাপ কমে।
ইতিবাচক চিন্তা ও কৃতজ্ঞতার চর্চা মনকে প্রফুল্ল রাখে। জীবনে যা বদলানো সম্ভব নয়, তা মেনে নেওয়া বা বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা শ্রেয়। যেমন চাকরি হারানোর আশঙ্কায় নতুন সুযোগ খোঁজা বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। এসব কৌশল নিয়মিত চর্চা করলে ওষুধ সেবনের প্রয়োজন না-ও পড়তে পারে।
